বিশ্বপরিবেশ ভাবনা

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on telegram
Share on reddit
Share on twitter

রচনা সংকেত : ভূমিকা, পরিবেশ দূষণ এর কারণ ও ফলাফল ,বসুন্ধরা শীর্ষ সম্মেলন ,উপসংহার

ভূমিকা:

আজ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি তথাকথিত সভ্য দেশে চূড়ান্ত এক অন্যায় শরিক ৷ সেই অন্যায়টি হল পরিবেশ দূষণ তথা পরিবেশের ধ্বংসসাধন ৷ বিশ্বের যে দেশ যত বেশি সভ্যতার বড়াই করে সে দেশে দূষণের মাত্রা ততবেশি তত ভয়ঙ্কর ৷ লাগামছাড়া রাসায়নিকের ব্যবহার, কলকারখানা ও যানবাহন বৃদ্ধি, পরমাণু বোমার পরীক্ষা, গাছ কেটে নগরায়ণ, জলাভূমি ভরাট এর মত দূষণ বৃদ্ধির প্রধান কারণগুলি ওই সব দেশের তথাকথিত উন্নয়নমূলক কর্মসূচির মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে ৷ এর ফলে পৃথিবী ক্রমশ দূষণের বিষবাষ্পে জর্জরিত হয়ে পড়ছে এগিয়ে চলেছে ধ্বংসের দিকে ৷ দুরারোগ্য ব্যাধির মত দ্রুত ছড়াচ্ছে দূষণের প্রকোপ ৷ এর প্রতিরোধে আশু ব্যবস্থা নিতে হবে ৷ তা না হলে পৃথিবীর অস্তিত্বই বিপন্ন হয়ে পড়বে ৷

পরিবেশ দূষণের কারণ ও ফলাফল :

আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে অন্তহীন দূষণ ৷ গাছ কাটা নদী বাঁধ নির্মাণ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, তেল ও কয়লা অত্যাধিক ব্যবহার, মাত্রাছাড়া শব্দের সৃষ্টি ,বিপুল জনসংখ্যা-এইসবই দূষণবৃদ্ধির কারণ ৷ দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলা পারমাণবিক পরীক্ষানিরীক্ষায় এই দূষণকে ভয়াবহ মাত্রা দিয়েছে ৷ নানা সময়ে যুদ্ধবিগ্রহের ফলে বিষিয়ে গেছে পৃথিবীর জল-হাওয়া ৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ জাপানে পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ, ভিয়েতনাম-যুদ্ধে নাপাম বোমার ব্যবহার সেসব দেশের চিরস্থায়ী ক্ষতি করেছে ৷ মরুযুদ্ধের সময় সমুদ্রে ভাসমান তেল সামুদ্রিক প্রাণীদের মৃত্যুর কারণ হয়ে উঠেছে ৷

বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরোকার্বন, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে ৷ ফলে ঘটে চলেছে ‘গ্লোবাল ওয়ার্মিং‘ বা বিশ্ব উষ্ণায়ন ৷গত ১০০ বছরে পৃথিবীর উষ্ণতা বেড়েছে ০.৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস ৷ তাপ বৃদ্ধির ফলে হিমবাহগুলি গলতে শুরু করেছে, সমুদ্রের জল স্তর বাড়ছে ৷ সমুদ্রতীরবর্তী জনপদগুলো ক্রমশ সংকটের দিকে এগিয়ে চলেছে ৷ গ্রিনহাউস গ্যাস গুলির জন্য বায়ুমন্ডলের ওজোনস্তরের ঘনত্ব কমে যাচ্ছে ৷ এই স্তরটি সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির হাত থেকে আমাদের রক্ষা করে ৷ তাই এর ফলে হবে মারাত্মক৷ এভাবেই জলদূষণ, শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ, মাটিদূষণ, দৃশ্যদূষণ ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে পৃথিবী এক সকরুণ পরিণতির দিকে এগিয়ে চলেছে ৷

বসুন্ধরা শীর্ষ সম্মেলন :

১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও শহরে ‘বসুন্ধরা শীর্ষ সম্মেলন’ বা ‘আর্থ সামিট’-এ মিলিত হয় বিশ্বের একশো ছেষট্টিটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারি আধিকারিক এবং পরিবেশবিদগণ ৷ সবমিলিয়ে উপস্থিতি ছিলেন প্রায় ১৮ হাজার মানুষ৷ বিশ্ব পরিবেশ বিষয়ক এত বড় সম্মেলন পৃথিবীতে এই প্রথম ৷ এর উদ্যোক্তা ছিল রাষ্ট্রসংঘ ৷ সম্মেলন চলে একটানা ১২ দিন ধরে ৷ বিশ্ব পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে ২১ দফা কর্মসূচি স্থির হয় ৷ যেমন- দূষণ প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ, সচেতনতা বৃদ্ধি ইত্যাদি ৷ প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন প্রতিটি দেশের প্রতিনিধি ৷ এই প্রথম বিশ্বের সমস্ত সচেতন মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে পরিবেশ রক্ষার শপথ বাক্য ধ্বনিত হয়ে উঠলো ৷

উপসংহার :

‘বসুন্ধরা শীর্ষ সম্মেলন’ এ একথা স্পষ্ট হয় যে , পরিবেশ দূষণের জন্য সর্বাধিক দায়ী প্রথম বিশ্ব অর্থাৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশ গুলি জাপান প্রভৃতি ৷ সম্মেলনে ওই দেশ গুলিকে এ ব্যাপারে সচেতন হবার জন্য পরামর্শ দেয়া হয় ৷ আক্ষেপের বিষয়, এই সম্মেলনের পরও দূষণরোধে সচেতনতা তেমন বৃদ্ধি পায়নি ৷ তবে বহু মানুষ এ সম্পর্কে জেনেছেন এবং প্রতিকারের পথ খুঁজে চলেছেন ,আশার আলো সেখানেই ৷

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on telegram
Share on reddit
Share on twitter
Scroll to Top