প্রবন্ধ রচনা কিভাবে লিখতে হয় ?

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on telegram
Share on reddit
Share on twitter

প্রবন্ধ রচনা লেখার কোনো বাধা ধরার নিয়ম নির্দেশ করা যায় না । কারণ প্রবন্ধ হচ্ছে কোন বিষয় সম্পর্কে লেখকের এর জ্ঞান, ধারণা ও সিদ্ধান্তের বহিঃপ্রকাশ। জ্ঞান, ধারণা, সিদ্ধান্ত কি রকমের হবে এবং তিনি কীভাবে তা প্রকাশ করবেন তা নির্ভর করে লেখোকের প্রকাশ ক্ষমতার উপর । তবে নিয়মিত অভ্যাস ও সব সময় অনুশীলন করে লেখক তার জ্ঞান, চিন্তা এবং প্রকাশ ক্ষমতা বাড়াতে পারেন। এজন্য প্রবন্ধ রচনা লেখার নিয়ম বলতে অভ্যাস ও অনুশীলন সম্পর্কে কয়েকটি সূত্র দেয়া যেতে পারে ।

যেকোনো প্রবন্ধের সাধারণত দুটি দিক থাকে। একটি হলো বিষয়গত, অন্যটি হলো রূপগত ।

প্রবন্ধের বিষয়গত দিক :

বিষয় গত দিক বলতে বোঝায় প্রবন্ধের মূল বিষয়বস্তু, তার উপস্থাপনা, উপস্থাপনা গত যুক্তিতর্ক ও তথ্যের আলোচনা। বিষয় গত দিক থেকে যেকোন প্রবন্ধ তিনটি ভাগে বিভক্ত। ভূমিকা ,মূল বিষয়, উপসংহার।

যে বিষয়ে প্রবন্ধ লিখতে হবে সেই বিষয় সম্পর্কে আমাদের চিন্তা ও বক্তব্য কে তিনটি ভাগে ভাগ করে নিতে হবে । যদি প্রশ্নপত্রে বিষয় সংকেত দেওয়া থাকে তাহলে ওই সংকেতগুলিকে মনে মনে তিনটি অংশে সাজিয়ে নিতে হবে। এই তিনটি বিষয় সম্পর্কে কিছু দরকারি কথা জেনে রাখা দরকার।

1) ভূমিকা

ভূমিকায় মূল বিষয়টি সূচনা মাত্র করতে হবে তাই ভূমিকা লিখতে হবে খুব সংক্ষিপ্ত করে । একটি ছোট অনুচ্ছেদ লিখলেই চলবে তবে ভূমিকাটি এমনভাবে লিখতে হবে যাতে মূল বিষয়টি পড়তে পাঠকের আগ্রহ জন্মায়।

2) মূল রচনা

প্রকৃতপক্ষে এটাই মূল প্রবন্ধ। এজন্য সম্পূর্ণ প্রবন্ধ টির মধ্যে এই অংশটি আকারে বড় হবে। আর বড় হবে বলেই এই অংশটি সাজানোর ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন আছে। সাজানোর আগে দরকার হলে প্রশ্নপত্রটি বেশ কয়েকবার পড়ে বুঝে নিতে হবে ঠিক কী বিষয়ে লিখতে বলা হয়েছে। একটা উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা আরো পরিষ্কার করে বোঝানো যেতে পারে। যেমন ধরা যাক ভারতীয় জনজীবনে রেলগাড়ির প্রভাব এ বিষয়ে রচনা লিখতে বলা হয়েছে। সেখানে তোমার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অথবা ভারতে রেলপথ বা রেলগাড়ির আবিষ্কারের ইতিহাস সম্পর্কে লেখা চলবে না। যদি মূল অংশে পাঁচটি অনুচ্ছেদ লেখ তবেতো তিন-চতুর্থাংশ জনজীবনে রেলগাড়ি প্রভাব এবং এক-চতুর্থাংশ বরাদ্দ থাকবে বাকি বক্তব্যের জন্য।

মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে যে বিষয়ে রচনা লিখতে বলা হয় সেই বিষয়ে কতগুলি পূর্বনির্দিষ্ট সংকেত দেওয়া থাকে। এই সংকেত গুলি কে ভিত্তি করেই প্রবন্ধের একেকটি প্যারাতে এক একটি বক্তব্য উপস্থাপিত হয় । লেখার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে প্রবন্ধের বক্তব্যে যেন ঐ সমস্ত সংকেত অবশ্যই উল্লিখিত থাকে। সংকেত এর বাইরে কোনো বক্তব্য না লেখাই ভাল ।

3) উপসংহার

ভূমিকা যেমন মূল বক্তব্য সম্পর্কে পাঠকের কৌতূহল জাগায় উপসংহার তেমনি মূল বক্তব্য সম্পর্কে পাঠকের আগ্রহ বোধ কে পরিতৃপ্ত করে। তাই ভূমিকার মত উপসংহার লেখার সময় বিশেষভাবে সাবধান থাকতে হয়। ঠিকমতো উপসংহার লিখতে গেলে যে সমস্ত পদ্ধতি অবলম্বন করা যায় তা হল – সমস্ত প্রবন্ধে যে যুক্তি জাল বিস্তার করা হয়েছে তার সারাংশ রচনা, মূল বিষয় সম্পর্কে কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অবতারণা, উপযুক্ত উদ্ধৃতি প্রদান, মূল বিষয় সম্পর্কে তোমার সিদ্ধান্তকে প্রকাশ করে এমন কোন চমকপ্রদ বাক্য ব্যবহার করা।

প্রবন্ধের রূপগত দিক :

রূপ কত দিক বলতে বোঝায় প্রবন্ধের শব্দপ্রয়োগ, বাক্য সাজানোর কায়দা, অনুচ্ছেদ রচনা, ভাষারীতি ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য কে বোঝায়। ভালোভাবে প্রবন্ধ লিখতে গেলে বস্তুগত ও রূপ কত দুদিকেই দিকে নজর দিতে হবে।

বিষয়গত লীগের মতোই রূপগত দিকগুলোকে ও চারটি ভাগে ভাগ করতে পারি। এগুলি হল যথাক্রমে গদ্যরীতি, শব্দ বাক্য – বাগভঙ্গি, অনুচ্ছেদ, বিরাম চিহ্ন। এবারে এগুলি কিভাবে প্রবন্ধে প্রয়োগ করবে জেনে নেওয়া যাক।

গদ্যরীতি –

সাধুবাদ চলিত যেকোনো রকম গদ্য ভাষাতেই প্রবন্ধ লেখা যায় । তবে যে রকমের গদ্যভাষা ব্যবহার করবে (সাধু হলে পুরোটাই সাধু চলিত হলে পুরোটাই চলিত ) আগাগোড়া সেই ভাষাতেই রচনা লিখবে কখনোই সাধু-চলিত মেশাবে না। সাধু চলিত মিশিয়ে লিখলেই সেটাই হবে মারাত্মক ভুল।

শব্দ বাক্য-বাগভঙ্গি –

তোমার বক্তব্যকে এমনভাবে প্রকাশ করবে যাতে মূল বিষয়টি পরিস্কার ভাবে বোঝা যায়। এর জন্য যা করতে পারো তাহলে খুব বড় এবং বাক্যাংশ সমন্বিত বাক্য এর পরিবর্তে ছোট ছোট বাক্য ব্যবহার করা। উপমা, অলংকার পূর্ণ ভাষায় না লিখে সহজ শব্দ ও সহজে বোঝার মত বাক্যাংশ ব্যবহার করতে হবে। তবে তার মধ্যে তোমার বক্তব্যকে জোরালো এবং তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলার জন্য উপমা পূর্ণ ভাষা আর কোন মনীষীর বক্তব্য উল্লেখ করতে পারো। বারবার একই শব্দ আর উপমা ব্যবহার করবে না। যেখানে একটি শব্দ ব্যবহার করলেই চলে সেখানে বেশি শব্দ ব্যবহার করবে না। প্রথম যখন অভ্যাস করবে তখন কোন বড় লেখককে যদি তুমি আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করো তাহলেও তুমি নিজের লেখার একটা বিশেষ ক্ষমতা কে আয়ত্ত করবে, প্রবন্ধে লেখক হিসাবে এটাই হবে তোমার নিজস্ব রীতি।

অনুচ্ছেদ

অনুচ্ছেদ প্রবন্ধ রচনা একটি খুব বড় প্রয়োজনীয় উপকরণ। এর মাধ্যমেই যিনি রচনাটি লিখছেন তার বক্তব্য একের পর এক বর্ণিত হয়ে থাকে। যে বিষয়ে রচনাটি লেখা হচ্ছে সেই বিষয়ের গুরুত্ব অনুযায়ী অনুচ্ছেদ গুলি আকারে ছোট অথবা বড় হবে। যদি আমরা কোন চিন্তা মূলক বিষয়ে প্রবন্ধ লিখতে বসি তবে তা আকারে একটু বড় হবে। আবার যদি কোন বর্ণনামূলক বিষয় (যেমন তোমার দেখা একটি মেলার বর্ণনা) প্রবন্ধ লেখা হয় তবে অনুচ্ছেদ গুলি আকারে একটু ছোট হলে ভালো হয় যাতে পাঠক খুব সহজেই পরের ঘটনার দিকে মনোনিবেশ করতে পারেন। অনুচ্ছেদ আকারে ছোট বা বড় যাই হোক না কেন তা লেখার সময় কিছু কথা মনে রাখতেই হবে যেমন একটি অনুচ্ছেদ একটির বেশি ভাব প্রকাশ করবে না, অনুচ্ছেদের প্রথম বাক্যটি তাই সম্পূর্ণ অনুচ্ছেদের মৌলি বক্তব্যটিকে প্রকাশ করবে এবং অনুচ্ছেদ এর পরের বাক্যগুলোতে তোমার মূল বক্তব্যটিকে যুক্তি তথ্য ও উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দেবে, এ জন্য প্রত্যেকটি বাক্যকে উপযুক্ত অব্যয় সর্বনাম ও বাক্যাংশ দিয়ে সম্বন্ধযুক্ত করবে, এক একটি অনুচ্ছেদ এর শেষ বাক্যটি এমন ভাবে লিখবে যাতে তার সূত্র ধরে পরের অনুচ্ছেদটি শুরু করা যায়।

বিরাম চিহ্ন

শুধু সুনির্বাচিত শব্দের পর শব্দ বসিয়ে গেলেই অর্থ হয় না। শব্দ ও অনুচ্ছেদ গুলো একের পর এক অর্থ অনুযায়ী সাজালে অর্থ পরিষ্কারভাবে বোঝা যায়। আর এই ব্যবধান বোঝানোর জন্য চাই দরকারমতো বিরাম চিহ্ন। বিরাম চিহ্নের ব্যবহার ঠিক মত হলে বাক্যের অর্থ সহজেই বোঝা যাবে। তা না হলে বাক্য দুর্বোধ্য হয়ে উঠবে । এজন্য প্রবন্ধ লিখতে হলে আমাদের বিরাম চিহ্নের ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।

সবশেষে প্রবন্ধ রচনা সম্পর্কে একটা শেষ কথা যে প্রবন্ধের বিষয় গত দিকের উৎকর্ষের জন্য ভালো বই এবং সংবাদপত্র পড়তে হবে। কারণ পড়াশোনা আর অভিজ্ঞতার সীমা আমরা যতই বাড়াতে পারব তত চিন্তা শক্তি বাড়বে। এই প্রবন্ধের রূপগত শিক্ষার উন্নতির জন্য ভাষার দখল বাড়াবার দিকে নজর দিতে হবে।

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on telegram
Share on reddit
Share on twitter
Scroll to Top